সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দিয়েছে বিটিআরসি

বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দিয়েছে বিটিআরসি। রোববার সন্ধ্যা ৬টার পরে মহাখালী সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে বিটিআরসির পরিচালক ইয়াকুব আলী ভূইয়ার নেতৃত্বে চার সদস‌্যের একটি দল প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তরঙ্গ ছেড়ে দেয়।

বকেয়া টাকা শোধ না করায় গত ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়। এরপর সিটিসেল কার্যক্রমে ফেরার আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগে গেলে গত বৃহস্পতিবার অবিলম্বে তাদের তরঙ্গ খুলে দেওয়ার নির্দেশ আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সিটিসেল বকেয়ার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে আবারও তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে বিটিআরসি।

আদালতের ওই আদেশের পর সিটিসেলের সংযোগ ফিরিয়ে দিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করেছে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাব্বী খন্দকার। তিনি বলেছিলেন, “আদেশের অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আদেশের পরই আমি বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে বলে দিয়েছি। বিটিআরসির যা সামর্থ‌্য আছে, তা নিয়ে সংযোগ ফিরিয়ে দিতে তারা কাজ শুরু করেছেন।”

কিন্তু এরপর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তরঙ্গ ফিরে না পেয়ে ফের আদালতে যায় সিটিসেল। তাদের আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারকের বেঞ্চ এ বিষয়ে বিটিআরসির ব্যাখা জানতে চায়। আদালতের নির্দেশনার পরও সিটিসেলের তরঙ্গ কেন খুলে দেওয়া হয়নি, তা বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে জানাতে বলা হয়। পরে বিটিআরসির পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ‌্যে শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিকালে মিটিং ডাকা হয়েছে।

এদিকে আজ দুপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জিপিওতে ডাক বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম বলেন, আদালতের নির্দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আদালতের মৌখিক সিদ্ধান্ত জেনেছি। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল। বিষয়টা হলো তরঙ্গ খুলে দেয়া, আমাদের একটু কাজ করতে হবে। বিটিআরসি কাজ শুরু করেছে। কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি বলেন, আদালতের সার্টিফাইড কপি পাইনি, তারপরও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আদালতের সার্টিফাইড কপির জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

Comments

comments

" প্রযুক্তির সর্বশেষ আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন "

Related Post