বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নিতে ভুটান প্রতিনিধিদল ঢাকায়

ভারতের পর এবার প্রতিবেশি দেশ ভুটানও বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নিতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভুটান থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ থেকে ভুটানে ব্যান্ডউইথ নেয়ার বিষয়ে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই, উভয় দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের উভয় দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে প্রতিনিধি দলটি ভুটানে ফিরে যাবে আগামী শুক্রবার।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ভুটান সফরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সফরে আসে ভুটান সরকারের প্রতিনিধি দল। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখবেন। প্রতিনিধি দলটি এরই মধ্যে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভা শেষ করেছে। এসব বৈঠকে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিএসসিসিএল থেকে আইপি ব্যান্ডউইডথ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিস্তারিত কারিগরি সিদ্ধান্ত নিতে বিএসসিসিএলের বিভিন্ন পপ ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিনিধি দলটি।

এর আগে ভুটানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক দাম বাদ দিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের মৌখিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইথের আন্তর্জাতিক দামকে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএসসিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি। তাদের কতটা চাহিদা রয়েছে বা কত টাকায় তারা কিনতে ইচ্ছুক এসব আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ভুটান এখন চীন থেকে না ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করছে আমরা জানি না। এমনকি কত টাকায় তারা কিনছেন তাও জানা নেই। যদি তারা অন্য দেশ থেকে উচ্চ দামে ব্যান্ডউইথ কেনে তাহলে আমাদের কাছে তাদের চাহিদা অনেক বেশি হবে বলে মনে করছি। তবে আমাদের দেশেও ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেড়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে রপ্তানির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতে ১০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ রপ্তানি শুরু করে চলতি বছর থেকে।  এক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ধরা হয়েছে ১০ ডলার। এ হিসেবে আয় হচ্ছে ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ৬ মাস পর মোট ৪০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ নিতে পারে ভারত। তখন এ খাত থেকে বছরে বাংলাদেশের আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের এ ব্যান্ডউইথ ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচল রাজ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য আপাতত ৩ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। ব্যান্ডউইথের আন্তর্জাতিক দাম উঠানামা করে। এজন্য প্রতি বছর দামের বিষয়টি পুনর্নিধারণ হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির হাতে আছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। বিএসসিসিএল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পরও ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করতে সক্ষম। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ’র চাহিদা বেড়ে ২১০ জিবিপিএস হতে পারে। বাংলাদেশ আরো ১৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে আগামী জানুয়ারির মধ্যে কুয়াকাটায় দ্বিতীয় ভূর্গভস্থ ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এর ফলে কোম্পানিতে আরো দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথড যোগ হবে। বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবলের স্থায়িত্বকাল পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে শেষ হবে।

Comments

comments

" প্রযুক্তির সর্বশেষ আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন "

Related Post